মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬

মেকিং মার্কেটস ওয়ার্ক ফর দি যমুনা, পদ্মা এবং তিস্তা চরস (M4C) শীর্ষক প্রকল্প

বাংলাদেশ সরকার ও এসডিসি’র অর্থায়নে মে ২০১৩ হতে নভেম্বর ২০১৬ মেয়াদী একটি বৈদেশীক সাহায্যপুষ্ট কারিগরি সহায়তাধর্মী চলমান প্রকল্প। বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জনজীবনে মারাত্মক হুমকীর সৃষ্টি হচ্ছে। চরাঞ্চলগুলো নদী বেষ্টিত এবং মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায়  যোগাযোগ ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। চরের এই ভৌগলিক বিপর্যয় এবং মূল-ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্নতা ব্যাপক প্রভাব ফেলে যোগাযোগ, বাজার ব্যবস্থাপনা তথা চরগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপর। তদুপরি, চরগুলো অনেকগুলি কৃষি ভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্ভাবনাকে আকড়ে ধরে আছে। যার ফলে চরগুলো শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত। উৎপাদিত খাদ্য শস্যই স্থানীয় বাসিন্দাদের আয়ের অন্যতম উৎস এবং কৃষিকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের কর্ম সংস্থানের নিরাপদ ক্ষেত্র।  কিন্তু চরাঞ্চলে টেসই বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ন্যার্যমুল্য নিশ্চিত হচ্ছে না ফলে চরবাসী দিন দিন চরম দারিদ্রতা, অনিশ্চয়তা এবং বিপর্যয়সহ প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

 

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

M4C প্রকল্পটির  মূল লক্ষ্য হলো আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু জেলার চরে বসবাসকারীদের দারিদ্রতা ও বিপর্যয় হ্রাস করা। Chars Livelihoods Programme (CLP)-এর সম্পদ হসত্মামত্মর কার্যক্রমের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে চর উৎপাদকদের কর্মকান্ডকে দৃঢ় ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

 

প্রকল্প এলাকাঃ দেশের উত্তর ও উত্তর পশ্চিম অঞ্চলের মোট ১০টি জেলার (বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারি, টাঙ্গাইল এবং পাবনা) চরাঞ্চল।

 

অনুমোদিত প্রকল্প বরাদ্দ: ৬৩০৮.৮৫  লক্ষটাকা (প্রকল্প সাহায্য- ৫৫৫৯.৮৫; জিওবি-৭৪৯.০০ লক্ষ) জুন, ২০১৬ পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত ব্যয়ঃ ৬০৫৬.৪৮ লক্ষটাকা  (প্রকল্প সাহায্য- ৫৩৭৭.২৩; জিওবি-৬৭৯.২৫ লক্ষ)

 

চলতি অর্থ বছরে বরাদ্দঃ ১৭০০.০০ লক্ষটাকা (প্রকল্প সাহায্য- ১৫২.০০; জিওবি-১৫৪৮.০০ লক্ষ)

 

চলতি অর্থ বছরের জুন/১৬ পর্যন্ত ব্যয়ঃ ১৬৭৮.৪৫ লক্ষটাকা (প্রকল্প সাহায্য-১৫২৬.৪৫; জিওবি-১৫২.০০ লক্ষ)

 

প্রকল্পের কার্যক্রম

- চরাঞ্চলে উৎপাদিত পণ্যের (ভূট্টা, মরিচ, পাট) উৎপাদন ও উৎর্ষতা সাধনে সংশিস্নষ্ট বিষয়ে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে উন্নত জাত, উৎপাদন পদ্ধতি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সম্প্রসারণ।

- মূল চরাঞ্চলের যোগাযোগ সুবিধা উন্নয়নে ঘোড়ার গাড়ী প্রদানের মাধ্যমে যোগাযোগ উন্নয়নসহ কর্মসংস্থান;

- নদীর উভয় তীরে ভাসমান ঘাট সম্প্রসারনের সুযোগ সৃষ্টি ও তা উন্নয়নে স্থানীয় উদ্যোক্তা সৃষ্টি; এবং

- দ্রম্নতগতি সম্পন্ন নৌকা তৈরীর মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জীবাকায়নসহ চরের উৎপাদিত পণ্যের বাজার নিশ্চিতকরণ।

 

উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি
  • M4C প্রকল্পের ফলে ‘‘চরের দৃশ্যপট পরিবর্তন’’ শীর্ষক এক কর্মশালা বিগত ৫ জুন, ২০১৬ ঢাকায় আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় M4C প্রকল্পের ফলাফল এবং এর মাধ্যমে চরে বসবাসরত মানুষের অর্থনৈতিক পরিবর্তনে  সরকারী ও বেসরকারী, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সেবাদানকারীদের অবদান উল্লেখ করা হয়। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জনাব আনন্দ চন্দ্র বিশ্বাস প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন। কর্মশালায় সরকারী উচ্চ পযায়ের কর্মকর্তা, দাতাসংস্থার প্রতিনিধি ও বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থার উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
  • চরাঞ্চলে M4C প্রকল্পের আওতায় গরু মোটাতাজাকরণ কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে ৩টি পর্যায়ে ৬ জন ‘‘প্রাণিসম্পদ মাঠ সহকারী’’ ও ৩০ জন স্থানীয় প্রাণিচিকিৎকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
  • চরাঞ্চলে M4C প্রকল্পের উদ্যোগে ৩ টি কৃষি উপকরণ বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভূট্টা ও বাদামের ক্ষেতে মানসম্পন্ন উপকরণ ব্যবহারের ফলাফল প্রদর্শণের জন্য ১৩টি কৃষক মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয় যেখানে  ১,৩১৬ জন কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিল।
  • M4C প্রকল্পের উদ্যোগে ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ২,৭১৩ জন কৃষকের মাঝে চর উপযোগী উন্নত পদ্ধতিতে বাদাম চাষের ফলাফল প্রদর্শণের জন্য ২৩ টি মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়। এছাড়া এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালারও আয়োজন করা হয়।
  • M4C প্রকল্পের সহযোগিতায় প্রাণ কোম্পানী চরের বাদামের নমুনা চীন, মালয়েশিয়া ও ওমান এ পাঠিয়েছে। এছাড়া প্রাণ এ পর্যন্ত ২৫৯ মেট্রিক টণ আলু ও ৭৫ মেট্রিক টণ মরিচ চর থেকে ক্রয় করেছে।
  • M4C প্রকল্পের সহযোগিতায় চরাঞ্চলে ১৪ জন চুক্তিবদ্ধ ব্যবসায়ীর মাধ্যমে ৮৩৪ জন বাদাম চাষীকে ৩৪টি গ্রুপে চাষ পরবর্তি ব্যবস্থাপনার উপরে প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়েছে। এই ব্যবসায়ীরা ২১০৫ জন চর কৃষকের কাছ থেকে ১৭,২৮৭,২০০ টাকা মূল্যে  ৩৩০ মেট্রিক টণ বাদাম ক্রয় করেন। অনুরুপভাবে, ৬৫ জন চুক্তিবদ্ধ ভূট্টাব্যবসায়ী ২৯,৯৬০ জন চরের কৃষকের কাছ থেকে ৩৮ কোটি ১২লাখ ৮৫ হাজার টাকা মূল্যে ভূট্টা ক্রয় করে।
  • M4C প্রকল্পের সহযোগিতায় ৩০ জন কৃষক পেয়াজ সংরক্ষণের জন্য স্বল্প খরচে মাচা তৈরী করেন এবং গড়ে জনপ্রতি ১৫-২০ মণ পেয়াজ সংরক্ষণ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
  • চরাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৫টি ফ্লোটিং ষ্টেশন তৈরী সমাপ্তির পথে। এছাড়া ২৮ টি মডেল নৌকা ও ১৮ টি চরের গাড়ী হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। চরের মানুষ উৎসাহ ও আগ্রহের সাথে নিরাপদে এই সুবিধাগুলো ব্যবহার করছেন।
  • পল্লী উন্নয়ন একাডেমীতে স্থাপিত চর উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রকে (CDRC) একটি চর ভিত্তিক নলেজ সেন্টারে পরিনত করার লক্ষ্যে M4C ও আরডিএ’র যৌথ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

1. Producer Group Members Database Summary

2. Producer Group Members Database_Details

 

বিভিন্ন ফল উৎপাদনে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান

চরে উৎপাদিত মরিচ

 

 

 

চরে ভূট্টা উৎপাদন, মাড়াই ও শুকানো ব্যবস্থাপনা

 

চরে পাট উৎপাদন

 

চরের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন

নদী পথে পণ্য পরিবহণ ও যাতায়াতের জন্য উন্নত ঘাট তৈরী

নদী পথে যাতায়াতের জন্য উন্নত নেৌকা তৈরী

 

চরে চলাচলের জন্য চর উপযোগী নছিমন (চরের গাড়ী) তৈরী

চরে চলাচলের জন্য ঘোড়ার গাড়ী

 

চরের মহিলাদের হ্যান্ডি ক্রাফট কার্যক্রম

 

 চরের নারী উন্নয়ন (M4C Gender Development)

for more...

গ্রাপ গ্রাপ

Share with :