মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩rd জানুয়ারি ২০২২

পল্লী জৈবসার ও বায়োগ্যাস ইউনিট

দেশের জ্বালানী শক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানী শক্তির বিকল্প ব্যবহারের লক্ষ্যে ২০০২ সালে পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া একাডেমী ক্যাম্পাসে ২টি বৃহৎ বায়োগ্যাস প্লান্ট (১৩০ ঘন মিটার) স্থাপন করা হয়। উক্ত প্লান্টের মাধ্যমে একাডেমীর সকল বর্জ্য নিয়ন্ত্রণসহ ক্যাম্পাসে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বায়োগ্যাস ও উন্নতমানের জৈব সার উৎপাদন করা হয়। উক্ত প্লান্টের উৎপাদিত ব্যয়োগ্যাসের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের ৬০টি বাসাবাড়িতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে বায়োগ্যাস সরবরাহ করে রন্ধন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে গড়ে প্রতি মাসে ১২০টি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার সাশ্রয় হচ্ছে। এছাড়াও লোড শেডিংকালীন উৎপাদিত ব্যায়োগ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ক্যাম্পাসে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি বায়োগ্যাস প্লান্টে ব্যবহৃত গোবর ও বর্জ্য থেকে উৎকৃষ্টমানের জৈবসার উৎপাদন করে একাডেমীর ফসল ও নার্সারী ইউনিটে ব্যবহারের পাশাপাশি সরকারী পর্যায়ে একমাত্র “পল্লী জৈবসার” ব্র্যান্ডে প্যাকটজাত করে বাজারজাত করা হচ্ছে। ফলে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধির ফলে খাদ্য উৎপাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি হচ্ছে। আরডিএ, বগুড়া এ সকল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একাডেমী ক্যাম্পাসে বায়োগ্যাস প্লান্ট এবং নির্মিত বিভিন্ন ভবনের সেপ্টিকট্যাংক বায়োগ্যাস প্লান্টের উপযোগী করে বিনির্মাণ করায় আরডিএ ক্যাম্পাস Zero Waste Campus  গ্রীন ও ক্লীন ক্যাম্পাসে পরিনত হয়েছে। বিষয়টি দেশী-বিদেশী বিভিন্ন পর্যায়ের নীতি নির্ধারক, গবেষক, দর্শনার্থী, প্রশিক্ষণার্থীগণ উদ্বুদ্ধ হয়ে তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান ও এলাকায় বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের সবুজ মডেল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পরিবেশ উন্নয়নে বর্জ্যকে ব্যবহার করে পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া’র বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সাফল্য নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:
  • বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর।
  • পারিবারিক পর্যায়ের প্রচলিত বায়োগ্যাস প্লান্টের পরিবর্তে কমিউনিটি ভিত্তিক বায়োগ্যাস মডেল উদ্ভাবন।
  • শুধুমাত্র দুধ ও মাংসের জন্য খামার স্থাপন লাভজনক নয় বরং বর্জ্যকে বায়োগ্যাস ও জৈবসারে রূপান্তরের মাধ্যমে গবাদিপশুর খামার লাভজনক করা সম্ভব হয়েছে।
  • মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় রাসায়নিক সারের ব্যবহার হ্রাস ও জৈব সারের যোগান নিশ্চিত করণে মডেলটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে।
  • গ্রীন হাউজ গ্যাস নির্গমন রোধকল্পে মডেলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  • সিলিন্ডারে বোতলজাতকরণসহ পরীক্ষামূলকভাবে বায়োগ্যাসকে সিএনজিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে। 
  • স্থানীয় পর্যায়ে নবায়যোগ্য জ্বালানী শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ায় এলপিজি গ্যাস আমদানীতে বৈদেশিক মূদ্রা সাশ্রয়ে মডেলটি সহায়ক ভূমিকা রাখছে।  

 

উন্নতমানের জৈবসার উৎপাদন ও জমিতে প্রয়োগের মাধ্যমে মাটিতে জৈব পদার্থের ঘাটতি পূরণে সহায়তাকরণ ও পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে গ্রীণহাউজ গ্যাসের ক্ষতিকারক প্রভাবকে কমিয়ে নিয়ে আসার উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি স্বতন্ত্র ইউনিট হিসেবে পল্লী জৈবসার ও বায়োগ্যাস ইউনিটের যাত্রা শুরু। বিভিন্ন ইউনিটের চাহিদাভিত্তিক কাঁচা গোবর ও শুকনা গোবর সরবরাহ করা, একাডেমীর বিভিন্ন বাসাবাড়ীতে নিয়মিত বায়োগ্যাস সরবরাহকরণ, বায়োস্লারী শুকিয়ে সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বাজারজাতকরণ এ ইউনিটের কাজ। এই কার্যক্রমের আওতায় সেপ্টেম্বর ২০১৯ হতে নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত হিসাব বিবরণী নিম্নে উপস্থাপতি হলোঃ

বিবরণ

মোট আয় (লক্ষটাকা)

মোট ব্যয় (লক্ষ টাকা)

নীট আয় (লক্ষ টাকা)

বায়োগ্যাস সরবরাহকরণ, বায়োস্লারী প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ, বাসাবাড়ীতে বায়োগ্যাস সরবরাহকরণ

৬.৬

৫.৩১

১.২৮

 

প্রায়োগিক গবেষণার অংশ হিসেবে একাডেমী ক্যাম্পাস ও গবেষণা গ্রামে স্থাপিত কমিউনিটি বায়োগ্যাস প্লান্ট হতে প্রচুর বায়োস্ল্যারী উৎপন্ন হয় যা একটি উৎকৃষ্টমানের জৈবসার। স্থায়িত্বশীল কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় জৈবসার ব্যবহার একটি উত্তম কৃষিচর্চা বিধায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া কর্তৃক “পল্লী জৈবসার” উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও স্বল্পমূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রয় করা হয়।

ডিসেম্বর, ২০২০ থেকে ৩১ আগস্ট, ২০২১ পর্যন্ত পল্লী জৈব সার ও বায়োগ্যাস ইউনিটের মাধ্যমে ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে জৈব সার উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও রংপুর একাডেমী ও জামালপুর একাডেমীতে উপরোল্লিখিত বিষয়ে ২টি ব্যাচে মোট ৬০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। পল্লী জৈব সার ও বায়োগ্যাস ইউনিটের মাধ্যমে এই পর্যন্ত মোট ১০০ টন জৈব সার উৎপাদন ও বিপণন করা হয়েছে।


 

 

 

 



Share with :

Facebook Facebook