Wellcome to National Portal
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩rd নভেম্বর ২০২১

জাতীয় পুরস্কারসমূহ

(১) স্বাধীনতা পদক ২০০৪ 

 

বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশ পুনর্গঠন এবং ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন তার মধ্যে দেশের দারিদ্রপীড়িত উত্তরাঞ্চলে পল্লী উন্নয়ন ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা অন্যতম। তিনি যথার্থই অনুভব করেছিলেন যে, গ্রামভিত্তিক বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কোন বিকল্প নাই। তাঁর একান্ত প্রচেষ্টায় ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় ২.২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বগুড়া শহর থেকে ১৬ কিঃ মিঃ দক্ষিণে ১২০ একর জমির উপর গড়ে উঠে একাডেমীর বর্তমান নিজস্ব অঙ্গন। একাডেমীর মূল কাজ- প্রশিক্ষণ প্রদান, গবেষণা পরিচালনা এবং প্রায়োগিক গবেষণা।

 

বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমী সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি, উন্নয়ন কর্মী, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠনের প্রতিনিধি, বেকার যুবক ও যুব মহিলা এবং অন্যান্যদের জন্য চাহিদা নির্ভর বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কৃষি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একাডেমী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০০৩ সালের জুন পর্যন্ত সর্বমোট ২৬২টি গবেষণা কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্প পরিচালনার মাধ্যমে পল্লী উন্নয়নের বিভিন্ন টেকসই, নবায়নযোগ্য এবং রেপ্লিকেবল মডেল উদ্ভাবনের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

 

পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়ার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সাফল্য তুলে ধরা হলোঃ-

  • যেখানে আশির দশকে একটি গভীর নলকূপ থেকে মাত্র ৪০ একর জমিতে সেচ প্রদান করা সম্ভব হতো, সেখানে পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়ার উদ্ভাবিত ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা স্থাপনের ফলে একটি গভীর নলকূপ থেকে ১৬৩ একর বোরো ধানের জমিতে সেচ প্রদান করা সম্ভব হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় জ্বালানি খরচ ৭৫% এবং পানির অপচয় ৬০% হ্রাস পেয়েছে।
  • প্রচলিত প্রযুক্তিতে একটি ২ কিউসেক নলকূপ স্থাপন করতে গভীরতা অনুযায়ী ব্যয় হয় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা অথচ একাডেমী নিজস্ব প্রযুক্তি ও দেশীয় মালামাল ব্যবহার করে গভীরতা অনুযায়ী ৭৫ হাজার   থেকে ৩.০০ লক্ষ টাকায় একটি গভীর নলকূপ বসাতে সক্ষম।
  • দেশে বিদ্যমান আর্সেনিকের ভয়াবহতা রোধকল্পে একাডেমীর গবেষকবৃন্দ প্রায়োগিক গবেষণার মাধ্যমে আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে স্বল্প ব্যয়ে পানিকে আর্সেনিক মুক্ত করার জন্য ফিল্ট্রেশন প্লান্ট স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।
  • দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হাইব্রীড ভূট্টা বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে একাডেমী কর্তৃক উদ্ভাবিত টেকনিক্যাল প্রটোকল দেশে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উল্লেখ্য, একাডেমী ১৯৯৪ সালে দেশে ‘প্রথম জাতীয় বীজ মেলা’ শিরোনামে ব্যতিক্রমধর্মী বীজ মেলার আয়োজন করে। প্রায়োগিক গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য একাডেমীর ৮০ একর জমিতে গড়ে উঠা প্রদর্শনী খামারটি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে একটি প্রশংসিত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
  •  

এক কথায় বলা যায়, পল্লী উন্নয়ন একাডেমী গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনের মান উন্নয়ন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে জন্মলগ্ন থেকে অংগীকারাবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়াকে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০০৪ অর্জন করে।

 

(২) বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক-১৪১৫ (২০১০)- স্বর্ণ পদক ও রৌপ্য পদক

 

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবশে বান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী’র বর্তমান মহাপরিচালক জনাব এম এ মতিন-কে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি স্বরূপ ২৬ জুলাই ২০১০ সালে ২ বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার-১৪১৫ (স্বর্ণপদক) প্রদান করেন।

 

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক-১৪১৭ (২০১২ সালে)- রৌপপদক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া'র কৃষি বিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক জনাব একেএম জাকারিয়া বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার-১৪১৭ (২০১২)- রৌপপদক গ্রহণ করছেন।

 

HSBC-The Daily Star: Climate Award 2011

 

“জাতীয় পল্লী উন্নয়ন পদক ২০১২” স্বর্ণপদক

পল্লী উন্নয়ন ও প্রায়োগিক গবেষণায় বিশেষ অবদান শ্রেণিতে “জাতীয় পল্লী উন্নয়ন পদক ২০১২” স্বর্ণপদক লাভ করে পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ), বগুড়া। জাতীয় পল্লী উন্নয়ন পদক ২০১২-২০১৮ বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব মোঃ তাজুল ইসলাম, এমপি মহোদয়ের নিকট হতে অত্র একাডেমীর পক্ষে স্বর্ণপদক ও সম্মাননাপত্র গ্রহণ করেন একাডেমীর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জনাব খলিল আহমদ। এছাড়াও, কর্মকর্তা/কর্মচারী কর্তৃক ব্যতিক্রমধর্মী উল্লেখযোগ্য ও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন শ্রেণিতে “জাতীয় পল্লী উন্নয়ন পদক ২০১৪” এর স্বর্ণপদক ও সম্মাননাপত্র লাভ করেন একাডেমীর প্রাক্তন পরিচালক ড. একেএম জাকারিয়া।
৩১ অক্টোবর, ২০২১ খ্রি: তারিখে ঢাকাস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (বিআইসিসি), আগারগাঁও – এ আয়োজিত স্বর্ণপদক ও সম্মাননাপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব মোঃ তাজুল ইসলাম, এমপি; বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব স্বপন ভট্টাচার্য্য, এমপি। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সম্মানিত সচিব জনাব মোঃ মশিউর রহমান, এনডিসি। উল্লেখ্য যে, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) দায়িত্ব পালন করে।


Share with :

Facebook Facebook